ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৮ ডিসেম্বর ২০২২

ইসলাম ধর্মের মেয়েদের কপালে টিপ পরা হারাম

বেল্লাল হোসেন বাবু,
ডিসেম্বর ৮, ২০২২ ৯:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

   
                       

বেল্লাল হোসেন বাবু, নিজস্ব প্রতিবেদক :

টিপ একজন নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, এমনটাই ধারণা অনেকের। কপালে টিপ ১৬টি মেকআপের মধ্যে অন্যতম। বেশ কিছু অঞ্চলে বিয়ের পর টিপ পরার রেওয়াজও রয়েছে। নিজেকে সাজাঁতে বেশিরভাগ সময়ই মেয়েরা বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে থাকে। সাঁজার এই উপকরণগুলোর মধ্যে টিপ অন্যতম। কপালে টিপ না পরলে হয়তো সাজাঁটা পূর্ণতা পায় না। কিন্তু কপালে টিপ পরার ক্ষেত্রে ইসলাম কি বলছে? পবিত্র ইসলাম ধর্মে মেয়েদের কপালে টিপ পরাকে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ অতীতকালে সমাজে যারা অনৈতিক কার্যকলাপ করত তারা কপালে টিপ পরিধান করত। বিভিন্ন ধরনের লাল, নীল টিপ ব্যবহার করার বিষয়টি ইসলামী শরিয়ত মতে উচিত নয়। এটি ইসলামী আদর্শ বা এর চিন্তাধারার পরিপন্থী কাজ। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। বিশুদ্ধ বক্তব্য হলো, এটাকে পরিহার করাই উত্তম। এগুলো অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে বা অন্য চিন্তাধারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। যে সাদৃশ্য রাসুল (সা.) সম্পূর্ণ হারাম করেছেন। সহিহ মুসলিম ও সহিহ বুখারির মধ্যে এসেছে যে, যারা অন্য কোনো জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য করে, তারা তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। তারা আমার দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ইসলামে টিপ পরার একটি ইতিহাস আছে। হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য নমরুদ যখন একটি ১৮ মাইলের বিশাল অগ্নিকুণ্ড নির্মাণ করে তখন সেটি এত বড় ও ভয়াবহ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কোনো মানুষের পক্ষে হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) সেখানে নিয়ে নিক্ষেপ করা সম্ভব হলো না। এরপর অত্যাচারী নমরুদের নির্দেশে একটি চরকা বানানো হলো। যার মাধ্যমে হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) ছুড়ে আগুনে নিক্ষেপ করা যায়। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার কুদরতি নির্দেশে রহমতের ফেরেশতারা চরকার একপাশে ভর করে থাকায় সেটি ঘুরানো যাচ্ছিল না। তখন শয়তান নমরুদকে কুবুদ্ধি দিল- কিছু নগ্ন মেয়ে (পতিতা) এনে চরকার সামনে বসিয়ে দিতে; কারণ এমন জঘন্য পরিবেশে ফেরেশতারা থাকতে পারেন না। শয়তানের অনুসারী নমরুদ তাই করল। তখন ফেরেশতারা চরকা ছেড়ে চলে গেল; আর হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) আগুনে নিক্ষেপ করা সম্ভব হলো। এই ঘটনার পরবর্তী সময়ে ওই মেয়েগুলোকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হলো এবং তাদের মাথায় তিলক পরানো হলো। যেটা বর্তমানে আমাদের কাছে টিপ নামে পরিচিত।

যেসব মুসলিম নারী ফ্যাশনের জন্য টিপ পরে তারা হয়তো এই ঘটনা জানেন না। আর যদি জেনেও কেউ কপালে টিপ ব্যবহার করে তাহলে সেটা তার দুর্ভাগ্য! তবে হিন্দু নারীরা কপালে টিপ পরে তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে। (সূত্র : তাফসিরে মারিফুল কুরআন। হযরত ইবরাহিম (আ.) মূলগ্রন্থ তাবারী, তারীখ, ১ খণ্ড ১২৩-১২৪; ছালাবী আদি গ্রন্থ, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা: ৮১, আদি ইসলামী ইতিহাস, ইবনে কাসির)।