ঢাকামঙ্গলবার , ৭ মার্চ ২০২৩

নড়াইলের আমাদা দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ।

মোঃ আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার।
মার্চ ৭, ২০২৩ ২:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

   
                       

 

মোঃ আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার।

নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের আমাদা দাখিল মাদ্রাসায় নৈশ প্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কে এম ফেরদৌস খান ও তার চাচাতো ভাই মোঃ রেজাউল ইসলাম এর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধান অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারী বিধি মোতাবেক উল্লেখিত মাদ্রাসায় দুটি চতুর্থ শ্রেণীর পদে নৈশ প্রহরী ও আয়া পদে লোক নিয়োগ করা হবে এরই ধারাবাহিকতায় ওই ওই পদবীতে ৭/ জন আবেদন করেন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ধার্য করেন।

এভাবে কোন কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ একের পর এক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন ৪ বার পরিবর্তন করেন।

সর্বশেষ পরীক্ষার তারিখ ও স্থান ধার্য করা হয় ৩ মার্চ ২০২৩ জয়পুরের আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায়।

তার পূর্বে প্রতিষ্ঠান ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কে এম ফেরদৌস খান ও তার সহযোগী চাচাতো ভাই লক্ষীপাশা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল ইসলাম বিভিন্ন প্রার্থীর নিকট থেকে অর্থ-বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রার্থী আমাদা গ্রামের লাভলী বেগম এর মা হেনা বেগম ও পিতা জাকির মোল্লা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন আমার মেয়ে লাভলীকে ওই মাদ্রাসায় আয়া পদে চাকরি দেওয়ার জন্য আমাদের নিকট থেকে ৬ লক্ষ টাকা দাবি করেন অত্র মাদ্রাসার সভাপতি কে এম ফেরদৌস খান এবং এই টাকা টা রেজাউল ইসলাম এর মাধ্যমে দিতে হবে বলে জানান, এবং আধা ঘন্টার মধ্যে টাকা দিলে চাকরি হবে বলে আশ্বস্ত করেন,তখন আমরা সুদের উপর ২ লক্ষ টাকা এনে রেজাউল ইসলামের স্কুলে লক্ষীপাশা যেয়ে তার কাছে টাকা দিয়েছি ওই দুই লক্ষ টাকায় আমার মাসে ২৮ হাজার টাকা সুদ দিতে হবে।

এসময় রেজাউল ইসলাম আমাদের একটি কাগজে পরীক্ষায় কি প্রশ্ন আসবে সেটা লিখে দেন।এবং বলেন আমি ওখানে খাতা দেখবো তোমার মেয়ের চাকরি হবে।

কিন্তু লাভলীর চাকরি না হয় নাইন পরিবারের দাবি অন্য প্রার্থীর থেকে মোটা অংকের টাকা পেয়ে লাভলী কে চাকরি দেওয়া হয়নি, তখন তারা সেখানে ঝামেলা করলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে, এবং ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

আরেক প্রার্থী আমাদা গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে ইমরান প্রার্থী ছিলেন নৈশ প্রহরী তার মা সাংবাদিকদের কাছে বলেন আমাদের সাথে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় কনট্রাক হয়েছিল সভাপতি ও তার ভাই রেজাউল ইসলামের সাথে যে চাকরি হলে টাকা দিতে হবে টাকা ম্যানেচ করে রাখতে কিন্তু আমার ছেলের চাকরি টা ও হলো না।

এদিকে কামালপ্রতাপ গ্রামের গিয়াস সাংবাদিকদের বলেন তার মেয়ে শামসুন্নাহার বৃষ্টি কে চাকরি দেওয়ায় জন্য ২ লক্ষ টাকা সভাপতির সাথে কথা বলে রিজাউল ইসলাম এর কাছে দিয়েছেন,কিন্তু চাকরি না দিতে পেরে তাকে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান,গিয়াস এর দাবি তার দেওয়া টাকার থেকে বেশি টাকা নিয়ে অন্যকে চাকরি দেয়া হয়েছে, তারা ও ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি করেছেন।

এবিষয়ে অত্র মাদ্রাসার সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন ১৯৯৬ সাল থেকে এই মাদ্রাসাটি শুরু হয়েছে আমাদের প্রতিষ্ঠানে এরকম কোন ঘটনা ঘটবে এটা কাম্য নয়, এবং নিয়োগ সঠিকভাবে হয়েছে,তাছাড়া অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আমি জানিনা।

এঘটনায় লক্ষীপাশা আর্দশ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রিজাউল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন তারা আমার স্কুলে এসেছিলো আমি যে টাকা নিয়েছি এবং পরীক্ষার প্রশ্ন লিখে দিয়েছি তার কোনো প্রমাণ তাদের কাছে আছে, এবং আমি তো ওই মাদ্রাসার কোন কমিটিতে নেই, এবিষয়ে সভাপতির সাথে কথা বলেন।

এবিষয়ে কে এম ফেরদৌস খানের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে তিনি বলেন আমি এলাকায় থাকিনা শুক্রবারে নিয়োগের জন্য বাড়িতে গিয়েছিলাম আমি কারো কাছ থেকে কোন অর্থ নেই নাই বরং আরও ওই প্রতিষ্ঠানের অনেক ডোনেশন দিয়েছি, এবং আমি সাংবাদিকতা করি।

এবিষয়ে নড়াইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইদুর রহমান এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই,

মোঃ আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার।

মোবাইল ঃ০১৯২০২৮১৭৮৭ /০১৭০৫১৯৩০৩০.