ঢাকামঙ্গলবার , ২ এপ্রিল ২০২৪

নওগাঁর ১১ টি উপজেলার হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে খাঁটি তরল দুধ

উজ্জ্বল কুমার সরকার
এপ্রিল ২, ২০২৪ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!
   
                       

উজ্জ্বল কুমার সরকারঃ

ছোট ছেলে বায়না ধরেছে পায়েস খাবে। তাই হাটে তরল দুধ কিনতে এসেছিলেন নিয়ামতপুর বাজারের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। তার প্রয়োজন ছিল দুই লিটার দুধ। দুধ কিনে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে। মান্দার প্রসাদপুর বাজার সুতিহাট বাজার মহাদেবপুর বাজারে, তিনি জানান, নিয়ামতপুরে গরুর তরল দুধের কেনা-বেচার হাট চালু হয়েছে। প্রতিদিন বিকালে বসে এ হাট। দুধের হাট চালু হওয়ায় খুই উপকৃত হয়েছে এলাকার মানুষ। তরল দুধ নিয়ে এখন কারো কোনো চিন্তা নেই। অথচ তরল দুধের এ হাট চালু হওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে সংগ্রহ করতেন দুধ। তাতে দামও পড়ত বেশি; কিন্তু এখন বাড়ির কাছেই দুধের হাট বসায় খুব সহজেই দুধ সংগ্রহ করতে পারছেন। এখন দূরের অনেক আত্মীয়স্বজনও দুধের জন্য খোঁজখবর নিচ্ছেন।উপজেলায় কৃষি বিপণন কেন্দ্রের নিচতলায় পাইকারি ও খুচরা গরুর তরল দুধের হাট বসছে। প্রতিদিন এ হাটে ব্যবসায়ীরা আসছেন দুধ বিক্রি করতে। আর ক্রেতারা আসছেন কিনতে। তরল দুধের এ হাট চালু হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দুধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা উপকৃত হয়েছেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে অনেকের। এছাড়াও হাটে নায্যমূল্যে দুধ কিনছেন ক্রেতারা। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সহযোগিতায় এ দুধের হাট চালু করা হয়েছে।
সরেজমিন হাটে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের কাঁচাবাজারে অবস্থিত কৃষি বিপণন কেন্দ্রের নিচতলায় বেশ কয়েকজন খামারি তাদের খামারের গরুর দুধ বিক্রি করতে এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন দুপুরের পর তারা এখানে দুধ নিয়ে আসেন। বিক্রি করে আবার ফিরে যান বাড়ি। প্রতি লিটার দুধ ৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা। খামারিদের একজন জানান, এই হাট চালুর পর থেকে হাটে ক্রেতার অভাব না হওয়ায় দুধ তাদের বাড়িতে ফেরত নিয়ে যেতে হয়নি। এতে খামারিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন- তেমনি স্থানীয় ক্রেতারাও সহজেই নায্যমূল্যে কিনতে পারছেন দুধ।
দুধ ক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি কয়েক দিন থেকে এ বাজারের দুধ কিনছেন। দুধের মানও ভালো। তবে ক্রেতাদের কাছে দুধের মান নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো হয়। তবেই এ তরল দুধের হাটের ব্যাপ্তি বাড়বে, তেমনি আকৃষ্ট হবেন ক্রেতারা। দুধ ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম বলেন, তরল দুধের বাজার চালু হওয়ায় পর দুধ বিক্রি করতে অনেক সুবিধা হয়েছে তাদের। বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও অনেক। আগে দুধ বিক্রি নিয়ে অনেক টেনশন হতো। দুধ বিক্রি না হলে ওই দুধ নিয়েও সমস্যায় পড়তেন মধ্যে মধ্যেই। সংরক্ষণের কোনো উপায় না থাকায় তখন পানির দরেই বিক্রি করে দিতেন দুধ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আ. লতিফ বলেন, উপজেলায় তরল দুধের বাজার ইতোপূর্বে ছিল না। এ বাজার চালুর উদ্দেশ্যই হচ্ছে খামারি ও ভোক্তার মধ্যে ব্যবধান কমানো। কেউ যেন সিন্ডিকেটের শিকার না হন। ভোক্তারা নায্যমূল্যে তাদের প্রয়োজনীয় দুধ কিনতে পারে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে নিয়ামতপুরে দুধের বাজারকে কেন্দ্র করে আরও বড় ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।