ঢাকামঙ্গলবার , ২ এপ্রিল ২০২৪

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির মৃত্যু: হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

মো:মাহবুবুল আলম
এপ্রিল ২, ২০২৪ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!
   
                       

মো:মাহবুবুল আলম-শ্রীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরে শ্রীপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় লাইফ কেয়ার হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন সিভিল সার্জন ,গাজীপুর। মঙ্গলবার সকালে শ্রীপুর পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তায় লাইফ কেয়ার হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা: মাহমুদা আক্তার। পরিদর্শন শেষে তিনি হাসপাতালের পুরো কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, লাইফ কেয়ার হাসপাতালের একজন সিস্টারের সাথে কথা বলেছি, সে এ সংক্রান্ত কোন লেখাপড়া করেনি ।আবার যিনি রক্ত সংগ্রহ করে, তারও কোন ট্রেনিং নাই। রোগীর ফাইলপত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস্ পাওয়া যায়নি, প্রতিটি পেশেন্টরই একই কেস, কোন ওটি নোট লিখা নাই। শুধুমাত্র কনসার্ন পেপারে আছে, যাতে কোন ডাক্তারের স্বাক্ষর নাই। যারা লিখছে তারা সেখানে কি লিখছে, সেটাও তারা বলতে পারছে না। এটা অদক্ষতার মধ্যেও পড়ে না। এতেই প্রমাণিত হয় যে তারা কেউ এই রিলেটেড লোকই না তারা। আমি হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়ে যাচ্ছি। এজন্য আমি এসেই ভর্তি রোগী কয়জন আছে তার খোঁজ খবর নিয়েছি। শনিবার এবং রোববার অপারেশন হওয়া তিনজন রোগী ভর্তি আছেন। আজকে রাতে না হলেও আগামীকালের মধ্যে তাদের ছুটি দিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটি ১০ বেডের হাসপাতাল ।তাই ১০ বেডের হাসপাতালে কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই থাকবে। এখানে যতজন ডাক্তার লাগে, যতজন সিস্টার লাগে, সেই ডাক্তার এবং সিস্টারসহ সব কাগজপত্র আমাদের কাছে নিয়ে যাবে, তারপর আবার এসে দেখবো। দেখে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তারপর হাসপাতালটি পুনরায় চালুর অনুমতি দেয়া হতে পারে। আপাতত তিনজন রোগীর চিকিৎসা চলমান আছে, তাদের ছুটি হয়ে গেলে নতুন করে আর কোন চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

উল্লেখ্য থাকে যে , গত রোববার গাজীপুরে শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলায় ইয়াছমিন আক্তার নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে । পরে কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে গেলে উত্তেজিত স্বজনেরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।