ঢাকামঙ্গলবার , ২ এপ্রিল ২০২৪

লোহাগড়ায় ব্র্যাক থেকে লোনের টাকা দিতে না পারাই নির্যাতনের শিকার, বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা,

মো: আজিজুর বিশ্বাস
এপ্রিল ২, ২০২৪ ৮:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!
   
                       

মো: আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পার মল্লিকপুর গ্ৰামের মৃত ইদ্রিস মোল্লার ছেলে রবিউল ইসলাম গত ২/৩ মাস পূর্বে লোহাগড়ার ব্রাক অফিস থেকে মাসিক কিস্তিতে ৪ লাখ টাকা লোন গ্ৰহন করেন ব্র্যাক সমিতির থেকে। উল্লেখ্য বিষয় গ্ৰাহক রবিউল ইসলাম ২ মাসে ২ টি কিস্তি পরিশোধ করেছেন এবং গত মার্চ মাসের কিস্তিটা দিতে পারেন নাই,ওই কিস্তি না দিতে পারার কারণে তাকে অফিসের কর্মী সেলিম বিভিন্ন সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, এবং ভয় দেখান সেলিম নাকি ৩৪টা মার্ডার করে ব্র্যাক অফিসে চাকরি করতে এসেছে।
৩১ মার্চ রবিবার দুপুরের দিকে গ্ৰাহক রবিউল ইসলাম কে উক্ত প্রতিষ্ঠানে আসার জন্য অফিসের মাঠ কর্মী সেলিম ও ম্যানেজার জামিনুর রহমান বলেন।

গ্ৰাহক রবিউল ইসলাম অফিসে আসলে টাকা দেওয়া হয়নি কেনো বলে ম্যানেজার এবং কর্মী সেলিম তাকে পাশের ১ টি রুমের মধ্যে নিয়ে মারপিট করেন এবং রুমে আটকে রাখে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। রবিউল ইসলাম আরও বলেন তাকে মারধর করার সময় অফিসের ম্যানেজার এবং কর্মী তাকে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে বলেন,বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলে ঋণের টাকা মাফ করে দিবেন বলেও তাকে জানান ওই ম্যানেজার এবং কর্মী সেলিম। এদিকে ব্র্যাক অফিসে সাংবাদিকরা গেলে সেখানে আরও দুইজন গ্রাহকের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে ওই সমিতির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে রবিউল ইসলামকে ব্র্যাক অফিস থেকে ছেড়ে দিলে তিনি অপমানিত হয়ে খোবে লোহাগড়া বাজার থেকে ধানে ব্যবহার করা বিষ কিনে নিয়ে বাড়িতে যেয়ে কাউকে না জানিয়ে ওই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, বিষ পানের বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানতে পেরে রবিউল ইসলামকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে এসে তাকে সেখানে ভর্তি করেন,

এরপর রবিউল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য খুলনায় ২৫০ শর্যা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।এঘটনায় আহত রবিউল ইসলামের স্ত্রী রেবেকা লোহাগড়া থানায় ব্র্যাক অফিসের ম্যানেজার এবং কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবিষয়ে লোহাগড়া ব্র্যাক অফিসের ম্যানেজার জামিনুর রহমান ও মাঠকর্মী সেলিম এর সাথে কথা বলার জন্য অফিসে গেলে তারা সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে শটকে পড়ে, এরপর একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমে ফোনে রিং ঢোকে পরবর্তীতে ফোন বন্ধ দেখায়। এবিষয়ে ব্র্যাক অফিসের প্রসেসিং অফিসার নাজমিন আক্তার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন অফিস থেকে গ্রাহকদের সাথে খারাপ ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই, যদি কেউ গ্রাহকের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে আমাদের অফিসিয়ালি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এঘটনায় নড়াইল জেলা ব্র্যাক সমন্বয়কারী অফিসার জাহিদ হোসেন এর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন আপনারা সাংবাদিক সবাই আমাদের পরিচিত কি ঘটনা ঘটেছে আমরা বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এবিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কাঞ্চন কুমার রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।