ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ জানুয়ারি ২০২৩

অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে চলছে কয়লা তৈরি

দৈনিক প্রথম বাংলাদেশ
জানুয়ারি ৩১, ২০২৩ ৮:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!
   
                       

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবৈধ চুল্লিতে অবাধে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। আর কাঠ থেকে কয়লা তৈরির এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন স্থানীয় অনেকে। এসব কয়লা তৈরির চুল্লি থেকে নির্গত হচ্ছে প্রচুর ধোঁয়া। যাতে অতিষ্ঠ জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগও আমলে নিচ্ছেন না এ ব্যবসায় জড়িতরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব কয়লা তৈরির কারখানায় অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। জনবসতি এলাকা ও বনায়ন নষ্ট করে এসব চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। লাল মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করা চুল্লিতে প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে কয়েকশ’ মণ কাঠ।স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ওইসব অবৈধ চুল্লি বসিয়ে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানো হয়। সেখান থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় আশপাশ আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। কিন্তু এসব অবৈধ চুল্লির মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস পায় না কেউই। এমনকি অসাধু চুল্লি মালিকদের প্রসঙ্গে জনপ্রতিনিধিরাও কথা বলেন নরম সুরে।
সরেজমিনে উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নে এমন প্রায় ১৩ টি চুল্লির সন্ধান পাওয়া গেছে, সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি চুল্লির মধ্যে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে একটি মুখ খোলা রেখে অন্য মুখগুলো মাটি ও ইট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খোলা মুখ দিয়ে আগুন দেওয়া হয় চুল্লিতে। আগুন দেওয়া শেষ হলে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন পোড়ানোর পর চুলা থেকে কয়লা বের করা হয়। প্রতিটি চুল্লিতে প্রতিবার ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। একেকটি চুল্লি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার কয়লা পাওয়া যায়। পরে এই কয়লা শীতল করে বিক্রির উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ইটভাটার মালিকেরা এই কয়লার বড় অংশের ক্রেতা বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব এলাকার একাধিক বাসিন্দারা বলেন, চুল্লিতে কাঠ পোড়ানোয় সৃষ্টি হচ্ছে ধোঁয়ার। রাস্তার পাশ দিয়ে চলাচল করার সময় চোখ জ্বালাপোড়া করে। গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। ফলন্ত গাছও মরে যাচ্ছে। বাড়ির শিশু ও বয়স্কসহ অনেকেই অসুস্থ হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে এলাকায় প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না। এদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই দেয়া হয় এলাকা ছাড়ার হুমকি।এবিষয়ে বোয়ালী বিট কর্মকর্তা মো. মাসুম মিয়া বলেন,সামাজিক বনায়ন ঘেঁষে এসব কয়লা কারখানা গড়ে উঠলেও এটা বন বিভাগের জমিতে নয়,পাবলিকের জমিতে গড়ে উঠেছে। ওইসব অবৈধ কয়লার কারখানা উচ্ছেদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)নুরুল করিম বলেন,কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন,খুব শিগগিরই ওইসব কয়লা কারখানা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।